নানার চরিত্র নিয়ে বললেন ডিম্পল

admin

এক দশক বলিউডে নেই তনুশ্রী দত্ত। যখন ফিরলেন, সঙ্গে এক পুরোনো দিনের ক্ষত। ‘আশিক বানায়া আপনে’ ছবিতে ইমরান হাশমির সঙ্গে সাহসী সেই প্রেমিকার কথা কেউ ভোলেনি। তবে এ কী নিয়ে ফিরলেন তিনি? একই পরিবারের কেউ তাঁর পক্ষে, কেউবা এখনো নানা পাটেকারে মশগুল!
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরেছেন তনুশ্রী দত্ত। এবার তাঁর কাজে ফেরার পালা। কিন্তু ফিরবেন কী? নানা পাটেকারের সঙ্গে তাঁর ঘটে যাওয়া ঘটনার জের ধরে তো প্রায় দেশান্তরিই হয়েছিলেন তনুশ্রী। ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির এক আইটেম গানে কাজ করার কথা ছিল। নানা পাটেকার সে সময় খারাপ আচরণ করেছিলেন তাঁর সঙ্গে। কোরিওগ্রাফার গণেশ আচার্য আর পরিচালক চেপে যেতে বলেছিলেন। নানা পাটেকার অনুচিতভাবে গায়ে হাত দিতে চাইলে তিনি কেন চেপে যাবেন? শুটিং থেকে চলে এসেছিলেন তিনি। এ জন্য একদল লোককে দিয়ে তাঁর গাড়িতে হামলাও চালানো হয়। সে সময় তাঁর গাড়িতে মা–বাবাও ছিলেন।
তনুশ্রীর অনুরোধ ছিল, নানা পাটেকারের মতো লোককে যেন কেউ কাজে না নেয়। কিন্তু কে শোনে কার কথা? নানা পাটেকার ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নিয়েছেন। রজনীকান্ত আর অক্ষয় কুমারের মতো শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। সম্প্রতি অক্ষয় কুমার তাঁকে নিয়েছেন ‘হাউসফুল ফোর’ ছবিতে। এ নিয়ে নাখোশ তনুশ্রী।
আবার অক্ষয়ের স্ত্রী টুইঙ্কল খান্না টুইটে জানিয়েছেন, তনুশ্রীর পাশে দাঁড়াবেন তিনি। লিখেছেন, ‘তনুশ্রীকে লজ্জা দেওয়ার আগে তাঁর কথা ভাবুন। হুমকি-ধমকি আর হেনস্তাহীন একটি কর্মপরিবেশ ও মৌলিক অধিকারের পথ তৈরি করে দিয়েছে এই মেয়েটির কণ্ঠ, যা আমাদের জন্য জরুরি ছিল।’
এদিকে ২০১০ সালে টুইঙ্কলের মা বরেণ্য বলিউড তারকা ডিম্পল কাপাডিয়ার এক ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। নানা পাটেকার সম্পর্কে তিনি সেখানে বলছেন, ‘যাঁর মেধা আছে, তাঁর শত খুন মাফ। তাঁর সব অন্যায় ক্ষমা করা চলে। আমার ওপর তাঁর প্রভাব আছে। মানুষ হিসেবে তিনি ভালো, দয়ালু এবং বন্ধু হিসেবে চমৎকার। কিন্তু তাঁর চরিত্রে কালিমা আছে। আমাদের সবারই আছে, যেগুলো সুন্দরভাবে এড়িয়ে যেতে হয়।’
তনুশ্রী বলেছেন, ‘আমি মুখ খোলার পর বহু নারী শিল্পী তাঁর সঙ্গে শেয়ার করেছেন যে নানা পাটেকার তাঁদের সঙ্গেও বাজে আচরণ করেছেন। ডিম্পলের মতো বন্ধুও তাঁর চরিত্রের অন্ধকার দিক আছে বলে স্বীকার করেছেন। অথচ সবাই নানাকে নিয়ে কাজ করেই চলেছেন।’
২০০৪ সালের ‘মিস ইন্ডিয়া’ ও বলিউড তারকা তনুশ্রী দত্ত শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া তিনি একই ধরনের অভিযোগ করেছেন পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী আর প্রেমাংশু রায়ের বিরুদ্ধেও। ভারতের টিভি চ্যানেল নিউজ এইটিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তনুশ্রী দত্ত অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবি করতে গিয়ে নানা পাটেকার তাঁকে যৌন হেনস্তা করেছেন। আর ডিএনএকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ২০০৫ সালে ‘চকলেট’ ছবির শুটিংয়ের সময় পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী তাঁকে জামা খুলে অন্য দুই শিল্পী সুনীল শেঠি আর ইরফান খানের সামনে নাচার জন্য বলেন। একই সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন প্রেমাংশু রায়ের বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালে এই পরিচালকের ছবি ‘গন্ধ’তে অভিনয় করতে গিয়ে যৌন হেনস্তার শিকার হন। তাঁকে দিয়ে জোর করে একাধিক ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করানো হয়। ওই সময় তাঁকে নগ্নভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়। প্রেমাংশু রায় এই ছবির কাজের পরও তনুশ্রী দত্তের ওপর অত্যাচার অব্যাহত রাখেন।
সূত্র : ডেকান ক্রনিকল, প্রথম আলো : ১ অক্টোবর ২০১৮

Share us
Next Post

সংগীত দুনিয়ার প্রভাবশালী নারী বিয়ন্সে

বিবিসি রেডিও ফোরের ‘ওমেন্স আওয়ার’ আয়োজনে ঘোষণা করা হয়েছে সংগীত–দুনিয়ার ৪০ জন প্রভাবশালী নারীর নাম। এর মধ্যে শীর্ষে আছেন মার্কিন সংগীতশিল্পী বিয়ন্সে। বিয়ন্সের দাতব্যকাজ, নারী অধিকার আন্দোলন আর নিত্যনতুন মঞ্চে গান গাওয়ার কারণে এই তালিকায় সবার ওপরে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন। ‘ওমেন্স আওয়ার’–এর তালিকায় বিয়ন্সের পরেই আছেন সংগীতশিল্পী টেলর সুইফট। […]
Beyoncé