যৌন হয়রানির অভিযোগ : ক্ষমা চাইলেন চেতন ভগত

admin

যৌন হয়রানির অভিযোগ, ক্ষমা চাইলেন চেতন ভগত

হলিউডের পর বলিউডে শুরু হয়েছে ‘#মিটু’ আন্দোলন। অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তের অভিযোগের পরই এ আন্দোলন বেশ জোরেই শুরু হয়েছে। একের পর এক যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠছে ভারতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। বলিউডের শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন তনুশ্রী। তনুশ্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন কঙ্কনা রনৌত, প্রিয়াঙ্কা চোপড়াসহ হালের অনেক অভিনেত্রীই। এবার ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী লেখক চেতন ভগতের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুললেন এক তরুণী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে অশালীন মেসেজ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে ‘থ্রি মিসটেকস অব মাই লাইফ’, ‘হাফ গার্ল ফ্রেন্ড’সহ কয়েকটি জনপ্রিয় বইয়ের লেখক চেতন ভগতের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সেই মেসেজের স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেছেন ওই তরুণী। সেখানে বলা হয়েছে, বার্তা আদান-প্রদানের সময় চেতনের কথায় এই নারী অমর্যাদাকর অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। তরুণীর ওই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ‘টু স্টেটস’, ‘ওয়ান ইন্ডিয়ান গার্ল’, ‘ফাইভ পয়েন্টস সামওয়ান’-এর লেখক চেতনের মুণ্ডুপাত করছেন। তবে তাঁর অতীত কর্মের জন্য অনুশোচনা করে ক্ষমা চেয়েছেন চেতন।
ওই নারীর পোস্ট অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর ফেসবুকে এক পোস্টে নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ‘রেভল্যুশন ২০২০’র লেখক চেতন ভগত। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যি এ ব্যাপারে দুঃখিত। আমি আশা করছি, সবাই আমার ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারটি গ্রহণ করবেন।’
তাঁর পোস্টে চেতন উল্লেখ করেছেন, ঘটনাটি অনেক দিন আগের হলেও সত্যি বলেই তিনি মেনে নিয়েছেন। ওই নারীর পাশাপাশি নিজের স্ত্রীর কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন চেতন ভগত। অভিযোগের পোস্টটি স্ত্রীকে দেখিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন চেতন।
চেতন ভগত ভারতীয় ঔপন্যাসিক, মোটিভেশনাল স্পিকার এবং টেলিভিশন উপস্থাপক। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ১৯৭৪ সালে অসাধারণ প্রতিভাবান এই ব্যক্তিত্বের জন্ম। চেতনের স্কুলজীবনের হাতেখড়ি দিল্লির আর্মি পাবলিক স্কুলে। ১৯৯৫ সালে তরুণ এই প্রতিভাবান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি দিল্লি থেকে স্নাতক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ১৯৯৭ সালে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট আহমেদাবাদ থেকে এমবিএ ডিগ্রি নেন।
পড়াশোনা শেষে প্রায় ১১ বছর ব্যাংকে কাজ করেন চেতন ভগত। হংকংয়ে একটি কোম্পানিতে কাজ করার সময়ও চেতনের মন কেবল লেখালেখিতে পড়ে থাকত। আর লেখালেখির জন্য কোম্পানির মালিক তাঁকে বরখাস্ত করেন। এই কোম্পানিতে চাকরি করার সময়েই ২০০৪ সালে চেতন লিখে ফেললেন ‘ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান’ নামের বহুল জনপ্রিয় বইটি। তাঁর উপন্যাসের অবলম্বনেই বলিউডে সিনেমা তৈরি হয়েছে ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘কই পো ছে’, ‘টু স্টেটস’ ও ‘হাফ গার্লফ্রেন্ড’।
২০০৮ সালে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়, চেতন ভগত ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রীত বইয়ের লেখক। টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ ক্ষমতাধর ব্যক্তির মধ্যে চেতন একজন।
তথ্যসূত্র: ডেকান ক্রনিকল, প্রথম আলো, ৬ অক্টোবর ২০১৮

Share us
Next Post

যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে খেপেছে বলিউড

যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে খেপেছে বলিউড যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শুরু করেছে বলিউড। অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তের সঙ্গে ২০০৮ সালে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলিউড তারকারা। নানাভাবে তনুশ্রীর পাশে দাঁড়াচ্ছেন অভিনয়শিল্পী আর কলাকুশলীরা। এমনকি কেউ কেউ নিজের গোপন হয়রানির ঘটনাও প্রকাশ করে সমবেদনা জানিয়েছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক […]
Bollywood Tanushree